অধিকৃত পশ্চিম তীরে হামলা ও উচ্ছেদের ভয়াবহতায় থমথমে ফিলিস্তিনি জীবন

অধিকৃত পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তার উম্মুল খায়ের গ্রামে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বিয়েতে কোনো নাচ-গান বা বাড়তি আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল না। স্থানীয় ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী আওদাহ হাতালিনের মৃত্যুবার্ষিকী এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অব্যাহত হামলার কারণে পরিবেশ ছিল থমথমে। সেনা হামলা এড়াতে বিয়েবাড়িতে এক জায়গায় সবাই জড়ো না হয়ে আলাদা আলাদা স্থান বেছে নেন গ্রামবাসীরা।
বিয়ের দিনেই শিমোন আতিয়া নামে এক অবৈধ বসতি স্থাপনকারী গবাদিপশু নিয়ে ফিলিস্তিনিদের সবজি বাগানে ঢুকে পড়ে। এ সময় ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা তাকে বাধা না দিয়ে উল্টো সুরক্ষা দেয়। স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা জমির আদি মালিকানা দাবি করলে সেনাসদস্যরা জানায় যে মানচিত্র বদলে গেছে, তবে তারা নতুন কোনো মানচিত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। সম্প্রতি আরেক ইসরায়েলির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি হত্যার ঘটনায় অভিযোগ গঠন করার প্রতিক্রিয়ায় এ ধরনের হামলা বাড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
জাতিসংঘের বিশ্ব আদিবাসী দিবসের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় অধিবাসীরা মনে করছেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উপস্থিতি মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। মানবাধিকার সংস্থা বি'সেলেম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে অন্তত ১,১০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল, যার মধ্যে ২৪২ জন শিশু। একই সময়ে ৩,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ (OCHA)-র হিসাব অনুযায়ী, উচ্ছেদ ও সহিংসতার কারণে এ বছর প্রতিদিন গড়ে ১৭ জন ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন, যা গত তিন বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ২০২৪ সালে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত উপস্থিতি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিলেও বাস্তবে ফিলিস্তিনিদের ওপর উচ্ছেদ ও সহিংসতার প্রভাব কমেনি।