অনলাইন প্রভাবকদের ভুয়া গল্প থেকে নির্মিত চলচ্চিত্র

করোনা মহামারির ঠিক আগে ইন্টারনেটে এক অদ্ভুত প্রবণতা লক্ষ্য করেন স্লোভেনিয়ার চলচ্চিত্র নির্মাতা উরশা মেনার্থ। অনুসারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বেশ কয়েকজন তরুণী ইন্টারনেটে নিজেদের জীবন নিয়ে করুণ ও ভুয়া গল্প বানিয়ে বলতেন। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, মানুষ সেসব মাইক্রো-ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে দেখা করতে দূর-দূরান্তে ছুটে যেত। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও অনুসারীদের এই জটিল মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্ক থেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন 'এভরিথিং দ্যাটস রং উইথ ইউ' চলচ্চিত্রটি। চলতি বছর সারায়েভো চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হচ্ছে।
কমেডি ও ড্রামার মিশ্রণে তৈরি এই চলচ্চিত্রে মারুশা নামের এক তরুণীর গল্প দেখানো হয়েছে। বার্লিন থেকে নিজ দেশ স্লোভেনিয়ায় ফেরার পর ক্যান্সারে মাকে হারিয়ে তীব্র একাকীত্বে ভোগে মারুশা। ইন্টারনেটে সময় কাটানোর সময় জার্মানিতে কর্মরত আলিয়া নামের এক নার্সের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। অনলাইনের এই সাধারণ সামাজিকতা দ্রুতই গভীর বন্ধুত্বে রূপ নেয়, তবে বাস্তবে তাদের দেখা হওয়ার পর সেই সম্পর্ক এক নতুন পরীক্ষার মুখে পড়ে। সিনেমায় দুই মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনুশা কোদেলিয়া ও ক্লারা কুক।
দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ধরে এই চলচ্চিত্রের কাজ চলেছে। নির্মাতা উরশা মেনার্থ জানান, মহামারির সময়ে একা থাকা এবং প্রথমবার মা হওয়ার অভিজ্ঞতাও তাকে নিঃসঙ্গতার এই গল্পটি লিখতে উৎসাহিত করেছে। বর্তমান সমাজে পুরুষদের নিঃসঙ্গতা নিয়ে আলোচনা হলেও, মেনার্থ নারীর মনস্তাত্ত্বিক একাকীত্ব, সামাজিক চাপ ও ডেটিং সংস্কৃতির বিষয়গুলোকে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পর্দায় তুলে ধরেছেন।
চলচ্চিত্রটির অভিনয়ের জন্য স্লোভেনিয়ার অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে অডিশন নেওয়া হয়। মজার বিষয় হলো, প্রধান দুই অভিনেত্রী প্রথমে যে চরিত্রের জন্য ভিডিও পাঠিয়েছিলেন, তাদের শেষ পর্যন্ত বিপরীত চরিত্রে নির্বাচন করা হয়। এরপর টানা ১ বছর তাদের সাথে চরিত্র বিশ্লেষণ ও চিত্রনাট্য পরিমার্জনের কাজ চলে। চিত্রগ্রহণের জন্য জার্মানির উপকূলীয় শহর হেরিংসডর্ফকে বেছে নেওয়া হয়।