আন্তর্জাতিক

আইসিসি ধ্বংস হবে ট্রাম্পের কারণে নয়, সদস্য দেশগুলোর উদাসীনতায়

৯ আগস্ট ২০২৬
আইসিসি ধ্বংস হবে ট্রাম্পের কারণে নয়, সদস্য দেশগুলোর উদাসীনতায়
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) টিকিয়ে রাখতে সদস্য দেশগুলোকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী আচরণ নতুন কিছু নয়। জর্জ ডব্লিউ বুশের আমল থেকেই রিপাবলিকান নেতারা এই আদালতের কাজের বিরোধিতা করে আসছেন। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালতটিকে ইটের পর ইট খুলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এবং কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসি যদি অস্তিত্ব সংকটে পড়ে, তবে তার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে সদস্য দেশগুলোর উদাসীনতাই বেশি দায়ী থাকবে।

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অপরাধে নিজেদের দায়মুক্তি দাবি করে আসছে। মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলেও তারা তা এড়াতে চায়। তবে আইসিসির ওপর ওয়াশিংটনের এই অতিরিক্ত রাগ বাস্তবে বিশ্বমঞ্চে আদালতটির মর্যাদা ও প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

সংকট থেকে আইসিসিকে রক্ষা করতে সদস্য দেশগুলোকে ৪টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, অপরাধ তদন্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতা করা। দ্বিতীয়ত, মার্কিন চাপে ভেনেজুয়েলা ও চাদ আদালত ছাড়লেও লেবাননের মতো নতুন দেশগুলোকে সদস্য হতে উৎসাহিত করা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সদস্যপদকে গুরুত্ব দেওয়া।

তৃতীয়ত, আইসিসির বাজেট বৃদ্ধি করা। ২০২৬ সালে এর বাজেট ছিল প্রায় ২১ কোটি ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়ের তুলনায় খুবই নগণ্য। চতুর্থত, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার শিকার বিচারক ও কর্মীদের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার বিশেষ আইনের মাধ্যমে সুরক্ষা দেওয়া, যাতে তাদের ব্যাংক হিসাব ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে বাধা দূর হয়।

আইসিসিযুক্তরাষ্ট্রট্রাম্পনিষেধাজ্ঞাআন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত