রাজনীতি

আওয়ামী লীগের ইতিহাস: আগস্টের তিন রাজনৈতিক বিপর্যয়

১৪ আগস্ট ২০২৬
আওয়ামী লীগের ইতিহাস: আগস্টের তিন রাজনৈতিক বিপর্যয়
১৯৭৫, ২০০৪ ও ২০২৪ সালের আগস্টে ঘটে যাওয়া তিনটি বড় ট্র্যাজেডি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলে।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ধানমন্ডির বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। সে সময় বিদেশে থাকায় বেঁচে যান তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। সদ্য স্বাধীন দেশের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, বাকশাল গঠন ও প্রশাসনিক ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ঘটে। এরপর খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন এবং এর তিন মাসের মধ্যে ৩রা নভেম্বর কারাগারে নিহত হন চার জাতীয় নেতা। ফলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বড় ধরনের ধাক্কার মুখোমুখি হয়।

তবে এই বিপর্যয়ের পরও দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ১৯৮১ সালে প্রবাসে থাকা অবস্থাতেই সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ই মে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। এরপর টানা ৪৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি দলটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এর মধ্যে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকায় দলীয় সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। ওই ঘটনাও দলটির ইতিহাসে অন্যতম বড় এক সহিংসতার ঘটনা।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট এক গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে ওই সময় ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিশ্লেষকদের মতে, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঘটলেও আগস্টের এই তিনটি ঘটনা ৭৭ বছরের পুরোনো দলটির রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় তৈরি করেছে।

আওয়ামী লীগশেখ মুজিবুর রহমানশেখ হাসিনাবাংলাদেশের রাজনীতিরাজনৈতিক ইতিহাস