আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ, উদ্বেগ ওয়াশিংটনের

৪ আগস্ট ২০২৬
ইরান যুদ্ধে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ, উদ্বেগ ওয়াশিংটনের
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে বলে জানিয়েছে তিনটি সূত্র। এই ঘাটতি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাতে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতিতে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান পাঁচ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ করে ফেলেছে। অভ্যন্তরীণ তথ্যের বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে। এতে ভবিষ্যতের যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, এসব অস্ত্র মূলত মার্কিন সেনাবাহিনীর স্থল থেকে স্থলে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা’ (এটিএসিএমএস বা অ্যাটাকামস) এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র’ (পিআরএসএম বা পিআরএসএম) নামে পরিচিত। এর মধ্যে দুটি সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এসব অস্ত্রের ‘প্রায় পুরো অংশই’ ব্যবহার করে ফেলেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী কী পরিমাণ অ্যাটাকামস ও প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে রয়েছে, তার তথ্য আগে কখনোই সামনে আসেনি। দূরপাল্লার এসব ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রাগারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা নিরাপদ দূরত্ব থেকে শত্রুপক্ষে নিখুঁত হামলা চালানোর সুবিধা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব অত্যাধুনিক অস্ত্রের প্রতিটির খরচ ১০ লাখ ডলারের বেশি। চীনের মতো বড় কোনো দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রেও এই অস্ত্র অতি জরুরি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এসব অস্ত্রের মজুত ঠিক কতটা রয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সূত্রগুলো।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালান। সে সময় সংঘাতটি স্বল্পস্থায়ী হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র। তাদের মতে, কমতে থাকা এই অস্ত্রের মজুত রাশিয়া ও চীনের মতো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমনে ওয়াশিংটনের ক্ষমতাকে সীমিত করে ফেলতে পারে।

ইরানযুক্তরাষ্ট্রক্ষেপণাস্ত্রযুদ্ধডোনাল্ড ট্রাম্প