আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের পর ঘাটতি? মার্কিন অস্ত্রাগার খালি হওয়ার আশঙ্কা

২৭ জুলাই ২০২৬
ইরান যুদ্ধের পর ঘাটতি? মার্কিন অস্ত্রাগার খালি হওয়ার আশঙ্কা
ইরানে সামরিক অভিযানের পর তীব্র অস্ত্রসংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্ত ৮৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছে পেন্টাগন।

পেনসিলভানিয়ার প্রতিরক্ষা সম্মেলনে মার্কিন অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের দ্রুত সামরিক সরঞ্জাম তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির আগে ইরান জুড়ে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং ১,৭০০টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ফুরিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের। 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নামের এই সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যার সিংহভাগই গেছে গোলাবারুদ খাতে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মজুত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় ট্রাম্পকে সংঘাত না বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে তাঁদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন জরুরি সংকট মেটাতে আরও ৮৭ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বাজেট চেয়েছে। গবেষক সংস্থা 'সিএসআইএস'-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যে পরিমাণ অস্ত্র শেষ হয়েছে, তা স্বল্পমেয়াদে পূরণ করা অসম্ভব।

সিএসআইএসের গবেষক মার্ক কানসিয়ান জানিয়েছেন, একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতেই এক থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যায়। যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ১,০০০টির বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার প্রতিটির উৎপাদন খরচ প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ডলার। সিএসআইএসের মতে, এই অস্ত্রাগার ২০৩১ সালের আগে আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব নয়।

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়টের মোট ২,৩৩০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১,৪৩০টিই ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাক ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে খরচ হয়েছে ৪০ লাখ ডলার, অথচ এগুলো দিয়ে ধ্বংস করা ইরানি ড্রোনগুলোর প্রতিটির নির্মাণ খরচ ছিল মাত্র ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া অত্যাধুনিক থাড (THAAD) ব্যবস্থার ৩৬০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ২৯০টিই ফুরিয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন কোনো সামরিক হুমকি তৈরি হলে তা সামাল দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধডোনাল্ড ট্রাম্পমার্কিন অস্ত্রাগারপেন্টাগনযুদ্ধবিরতি