এআই নজরদারি ক্যামেরা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক, অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট রিডার (এএলপিআর) ক্যামেরা বসিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফ্লক সেফটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এসব ক্যামেরা গাড়ির নম্বরপ্লেট, রঙ ও মডেল শনাক্ত করে দিনভর যান চলাচল ও মানুষের গতিবিধি নজরদারি করতে পারে। তবে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং পুলিশের মাধ্যমে এই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বেশ কয়েকটি শহর ফ্লকের সাথে চুক্তি স্থগিত করেছে। এছাড়া ব্যাপক সমালোচনার মুখে চুক্তি বাতিল করেছে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠান 'রিং'।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে সাবেক সঙ্গী বা সাধারণ মানুষকে বেআইনিভাবে অনুসরণ করার অভিযোগ উঠেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ৪০৪ মিডিয়ার প্রতিবেদনে এমন একাধিক অভিযোগ ওঠার পর ফ্লকের প্রধান নির্বাহী গ্যারেট ল্যাংলি অন্তত ১৫টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। অপব্যবহার ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করছে। এখন থেকে পুলিশ সদস্যদের যেকোনো অনুসন্ধানের জন্য মামলার সুনির্দিষ্ট কোড দিতে হবে এবং সন্দেহজনক আচরণ শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাময়িক বন্ধ হয়ে যাবে।
সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ ফ্লকের ১৩৮টি ক্যামেরার তিন বছর মেয়াদী চুক্তি স্থগিত করেছে। তথ্যের মালিকানা ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে নতুন চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে টেনেসিতে ফ্লকের ক্যামেরায় গুলি চালানোর অভিযোগে এক স্থানীয় কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়া এই নজরদারি প্রযুক্তি নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা বন্ধ করতে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি নাগরিক গোষ্ঠীকে ফ্লক আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।