এপ্রিল-জুনে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত ও লেনদেন বেড়েছে

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মেয়াদে দেশের এজেন্ট ব্যাংকিং খাতে আমানত, মোট লেনদেন ও গ্রাহক সংখ্যাসহ অধিকাংশ সূচকে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। তবে আলোচ্য সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের পরিমাণ আগের প্রান্তিকের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাস শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ১২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মার্চ প্রান্তিকের চেয়ে ৫৬৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বেশি। মোট আমানতের মধ্যে গ্রামীণ এজেন্টদের সংগ্রহ ৪২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা এবং শহরে ৯ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। একই সময়ে মোট লেনদেন ৩ হাজার ৫৬৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৮৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকায়। লেনদেনের ক্ষেত্রেও গ্রামের আউটলেটগুলোতে হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৩০ কোটি ৪ লাখ টাকা, যা শহরের তুলনায় ৯৪ হাজার ৬৭১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বেশি।
এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭৮টি নতুন হিসাব খোলার মাধ্যমে মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার ৮১টিতে। সেবা সহজলভ্য করতে নতুন ২৩৯ জন এজেন্ট ও ২৫৮টি আউটলেট যুক্ত হওয়ায় মোট এজেন্টের সংখ্যা ১৫ হাজার ৪২৩টি এবং আউটলেট ২০ হাজার ৫৯৭টিতে উন্নীত হয়েছে। অপরদিকে, এ প্রান্তিকে প্রবাসী আয় এসেছে ৫ হাজার ৯১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৩ হাজার ৩৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা কম।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সহায়তায় প্রথম ব্যাংক এশিয়া এ কার্যক্রমের অনুমোদন পায় এবং একই বছরের ৯ ডিসেম্বর নীতিমালা জারি করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটি চালু হওয়ার পর বর্তমানে সব ব্যাংক যুক্ত হয়ে এটি গ্রামীণ অর্থায়নের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে।