জাতীয়

এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, ঢাকায়ও শুরু লোডশেডিং

১৩ আগস্ট ২০২৬
বৈরী আবহাওয়ায় সামিট টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

তিন সপ্তাহ ধরে চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে মজুত সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরবরাহ কমানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে এবং বুধবার থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান টার্মিনালের মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় বন্ধ থাকায় গ্যাসের সংকট বেড়ে যায়। পেট্রোবাংলার সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ৭২ ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ থাকতে হবে। অন্যদিকে, সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ায় নতুন এলএনজি জাহাজ থেকে সামিট টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি, যা সরবরাহ বন্ধের অন্যতম কারণ।

দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও বর্তমানে মোট সরবরাহ নেমে এসেছে ১৯৩ কোটি ঘনফুটে। এলএনজি থেকে সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। ফলে তিতাসসহ ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থা হিমশিম খাচ্ছে। তিতাসের চাহিদা ১৯০-২০০ কোটি ঘনফুট হলেও বর্তমানে তারা ১০০ কোটি ঘনফুট পাচ্ছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১১টা থেকে পান্থপথ, যাত্রাবাড়ী, রাজাবাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। গ্রামীণ এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমাতে ঢাকায় লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য দোকান-পাট খোলার সময় বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সীমিত করেছে এবং আলোকিত বিলবোর্ড ও আলোকসজ্জা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, আবহাওয়া সুস্থ হলে শনিবার থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে এবং রোববার থেকে পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

গ্যাস সংকটলোডশেডিংএলএনজিবিদ্যুৎ বিভ্রাটঢাকা