গাজায় চুক্তি কার্যকরের দাবি ট্রাম্পের, শর্ত নিয়ে জটিলতা অব্যাহত

গাজায় হামাসের অস্ত্রসংবরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তিনি জানান, বেশ কয়েকটি ধাপে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী অস্ত্রসংবরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েল সেনা ফিরিয়ে নেবে এবং একটি আন্তর্জাতিক বাহিনীর সহায়তায় নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবে।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে গভীর মতভেদ সামনে এসেছে। হামাসের আলোচনা দলের প্রতিনিধি গাজী হামাদ জানান, গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অস্ত্র জমা দেবেন না। অন্যদিকে, ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত শর্তগুলো সন্তোষজনক নয়। কারণ, যেকোনো প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে তারা গাজাকে সম্পূর্ণরূপে সামরিকমুক্ত করা এবং হামাসের সব অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে অনড় রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। এছাড়া কুয়েতে ইরানি হামলায় এক কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং জর্ডানের আকাশসীমায় পাঁচটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে মিসরের একটি বন্দরেও নজিরবিহীন ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে লোহিত সাগরে নিজেদের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে ইয়েমেনের হাউছিদের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। দক্ষিণ লোহিত সাগরে চলাচল নিরাপদ রাখতে ইতোমধ্যে ১৪টি দেশকে নিয়ে একটি সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোটও গঠন করেছে রিয়াদ। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও ইউরোপের বড় তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে ২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।