অপরাধ

চাঁদা না পেয়ে প্রবাসী ব্যবসায়ীর ভবনের গেটে গুলি, আতঙ্কে চট্টগ্রাম

১১ আগস্ট ২০২৬
চাঁদা না পেয়ে প্রবাসী ব্যবসায়ীর ভবনের গেটে গুলি, আতঙ্কে চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে প্রবাসী ব্যবসায়ীর ভবনের গেটে গুলি চালানো হয়। নিরাপত্তাকর্মী ও দোকানদারের বক্তব্যে দুই যুবকের এই কাণ্ডের কথা উঠে আসে।

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পাওয়ায় এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর ভবনের গেটে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

ভবনটির নাম রুনা টাওয়ার। ১১ তলার এই ভবনের মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ। তাঁর দুই ছেলে প্রবাসী ব্যবসায়ী এবং গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়িতে। ইউসুফ নিষিদ্ধঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই দিন পর গ্রেপ্তার হওয়া আজিজ বর্তমানে কারাগারে আছেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী মো. আলমগীর জানান, রাতে বিদ্যুৎ ছিল না। হঠাৎ প্যান্ট-শার্ট পরা দুই যুবক এসে তাঁকে গেটের ভেতরে রেখে বন্ধ করে দিতে বলেন। পরে তাঁরা গেট লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছুড়ে হেঁটে চলে যান। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে।

ভবনমালিক ইউসুফ জানান, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে তাঁর ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় বলা হয়, ইউসুফের ছেলেমেয়েদের জীবনবৃত্তান্ত এবং বাড়ির ঠিকানা সম্পর্কে সব তথ্য জানা আছে। এক ঘণ্টার মধ্যে বড় ভাইয়ের কথামতো ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে, না হলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম জানান, চাঁদা না পেয়ে ভবনের গেটে গুলি করা হয়েছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি।

এর আগে গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

আরও আগে গত ১৩ জুন নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ওই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ইমন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি ১০ দিনের রিমান্ডে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

চাঁদাবাজিচট্টগ্রামসন্ত্রাসগুলিপ্রবাসী ব্যবসায়ী