জাতিসংঘে ফ্রান্স বক্তব্য দিতেই কক্ষ ছেড়ে বের হলেন মার্কিন কূটনীতিকেরা

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধবিষয়ক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠকে ফরাসি প্রতিনিধিদল বক্তব্য দিতে উঠতেই সভা ত্যাগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকেরা। মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জের ধরে সোমবার এই ঘটনা ঘটে। সভা শেষে এক বিকল্প মার্কিন প্রতিনিধি জানান, ফ্রান্স তাদের আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই বয়কট অব্যাহত থাকবে।
সংঘাতের মূল সূত্রপাত হয় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভোলকার টুর্কের চার বছর মেয়াদি পদের পুনঃনিয়োগকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্র টুর্কের পদে থাকার বিপক্ষে ভোট দিলে ফ্রান্সের জাতিসংঘ মিশন মন্তব্য করে, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মানবাধিকারের প্রতীক নয়; তারা উত্তর কোরিয়া, নিকারাগুয়া, মালি ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর সারিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর জবাবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ফ্রান্স এমন এক কর্মকর্তার সমর্থক যিনি স্বৈরাচারীদের তোষামোদ করেন এবং স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে বক্তৃতা দেন।
ভোটাভুটিতে ১৪৪-১০ ব্যবধানে ভোলকার টুর্ক পুনরায় জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। টুর্ক অতীতে ফিলিস্তিন ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমালোচনা করেছিলেন। ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন মার্কিন প্রতিনিধি দলের কক্ষ ত্যাগ করা নিয়ে কোনো সরাসরি মন্তব্য না করে জানান, ফ্রান্স জাতিসংঘের স্বাধীনতা বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
২০২৫ সাল থেকে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের একাধিক সংস্থায় অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নীতি অব্যাহত রেখেছে। তা ছাড়া ন্যাটোর বাজেট, বাণিজ্য নীতি এবং ডেনমার্কের মালিকানাধীন গ্রিনল্যান্ড দখল করার হুমকিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও প্যারিসের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ছিল। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ফ্রান্সের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন আগে থেকেই ক্ষুব্ধ।