জাতীয় গ্রিড ব্যর্থতায় অন্ধকারে পুরো কিউবা

জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ায় কিউবা জুড়ে এক বিশাল ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান 'ইলেকট্রিক ইউনিয়ন' (ইউএনই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এই ডিস্ট্রাপশনের কথা জানিয়েছে। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে কিংবা কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে, সে বিষয়ে সংস্থাটি নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। মূল বিপর্যয়ের আগে রাজধানী হাভানায় ট্রান্সফরমার বিকল ও সার্কিট বিচ্ছিন্নের কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলোতে জরুরি বিদ্যুৎ পৌঁছাতে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা করছে। তবে চলতি বছর দেশটিতে বারবার এমন বিদ্যুৎহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত জুলাই মাসেই মাত্র ৯ দিনে ৩ বার গ্রিড ভেঙে পড়েছিল। এর মধ্যে এক সপ্তাহের দুটি বড় বিপর্যয়ে অন্তত ১০ মিলিয়ন মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল।
জরাজীর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র, খুচরা যন্ত্রাংশের অভাব এবং তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবার শক্তি খাত দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে। দেশটির অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র ৩০ বছরেরও বেশি পুরোনো হলেও সেগুলোর পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। কিউবা সরকার এই সংকটের জন্য মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি অবরোধকে দায়ী করছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ আটকে দেওয়ায় এবং মেক্সিকো থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় সংকট চরমে পৌঁছেছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ একে দশকের পর দশক ধরে চলা অব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখছেন।
দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটে কিউবার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে পড়েছে। যাতায়াত, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি গ্রীষ্মের গরমে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করা কিংবা রাতে ঘুমানোও বাসিন্দাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।