জ্বালানি খাতে বেসরকারিদের প্রবেশাধিকার: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও সরকারের ব্যাখ্যা

জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের মতো সংবেদনশীল খাতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার সরকারি উদ্যোগ নিয়ে বিশেষজ্ঞ এবং ভোক্তা অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৮০ দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে অনেকেই এটিকে তড়িঘড়ি করা পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এতে ভবিষ্যতে বাজারে বিশৃঙ্খলা ও মুনাফামুখিতার সৃষ্টি হতে পারে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’ নামে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। শুরুতে বিপিসিকে ১০ আগস্টের মধ্যে খসড়া প্রস্তাব দিতে বলা হলেও সমালোচনার মুখে তা স্থগিত করে অংশীজনদের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ মে একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপ সরকারের কাছে বছরে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন ডিজেল, ২ লাখ টন অকটেন, দেড় লাখ টন পেট্রল এবং ৮ থেকে ১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল আমদানি ও বিপণনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। এরপর ১৪ জুলাই বিপিসি ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে, যাদের দুই কার্যদিবসের মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়। বর্তমানে বিপিসির মাধ্যমেই দেশে জ্বালানি বিপণন হয় এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি আমদানি ও বিপণন করা হয়েছিল।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, জ্বালানির মতো স্পর্শকাতর খাত বেসরকারিদের হাতে ছেড়ে দিলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হবে। তিনি বিদ্যুৎ খাতের উদাহরণ তুলে ধরে সতর্ক করেন যে, এতে কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণ হতে পারে। অন্যদিকে, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা বা ভর্তুকির বিষয়টি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তিনি ভারতের মতো দেশের ব্যবসায়িক মডেল খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন।