জ্বালানি তেল আমদানিতে বেসরকারি খাত: বড় সংকটের আশঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা

দেশে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে 'বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬'-এর খসড়া তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, এই নীতিমালার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাউকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে না এবং অংশীজনদের মতামত নিয়েই এটি চূড়ান্ত করা হবে। তবে সরকারি পর্যায় থেকে আমদানির এই ক্ষমতা বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের তোড়জোড়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭২ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ জ্বালানিই প্রক্রিয়াজাত করে চাহিদা মেটায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসি, আর অবশিষ্ট ৮ শতাংশ আসে স্থানীয় উৎস থেকে। আমদানিকৃত এই পণ্যের মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি সরাসরি বিদেশি উৎস থেকে এনে দেশে বিপণন করে বিপিসি।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ ও বিপিসির সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, পেট্রোলিয়াম একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর পণ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে লোকসান এড়াতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তেল আমদানি বা বিক্রি বন্ধ করে দিতে পারে। এতে জ্বালানি সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং সরকার বড় ধরনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংকটে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেন যে, বর্তমানে সাধারণ ভোজ্যতেলের বাজার বেসরকারি খাতে থাকায় তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে প্রায়ই হিমশিম খেতে হয়। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কৌশলগত সুরক্ষার স্বার্থে জ্বালানি খাত সরকারের নিয়ন্ত্রণেই রাখা হয়েছে। বিপিসির মতো একটি সফল সরকারি সংস্থাকে অকার্যকর করে বেসরকারি খাতকে নিয়ন্ত্রণ দিলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।