জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং: বিএনপির প্রতিশ্রুতি ভাঙা অভিযোগে নাহিদ ইসলাম

পরিকল্পনাহীনতা ও জ্বালানি ক্রয়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই বর্তমান সংকট ও অন্ধকার তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকার লুটপাটের বদলে উৎপাদন ও বৈষম্যের বদলে ন্যায্যতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙে অলিগার্কদের স্বার্থে কাজ করছে।
নাহিদ ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দায়মুক্তি আইন বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি, অথচ বর্তমানে বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানি ও বিতরণের নীতিমালা প্রণয়নে তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাসের চিঠির পর জ্বালানি বিভাগ বিপিসিকে মাত্র চার দিনের মধ্যে নীতিমালার খসড়া জমা দিতে বলে, যার বিরোধিতা করায় বিপিসির চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে ১০ দিনে কমিয়ে আনাও সিন্ডিকেটের সুযোগ তৈরি করছে বলে তার মত।
তিনি আরও বলেন, দেশে পর্যাপ্ত ডলার রিজার্ভ থাকা সত্ত্বেও সময়মতো জ্বালানি ক্রয়ের পরিকল্পনা না থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রচুর রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ রয়েছে, তবুও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে না দিয়ে সংকট তৈরি করে বেসরকারি খাতে লাইসেন্স দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
নাহিদ ইসলাম জানান, দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিং চলছে। ১০ আগস্ট রাত ১টায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। ৪১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় গ্রামাঞ্চলে দিনে ১০-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ আসছে না। তিনি যুদ্ধকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখতে নাকচ করে বলেন, এপ্রিল মাসেই লোডশেডিংয়ের সমস্যা ছিল। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে আগুনের পর ১৫ দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দেশের ডিজাস্টার রিকভারি সক্ষমতার প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।