ঝিকরগাছায় ভাতিজা হত্যা মামলায় চাচার যাবজ্জীবন, ছেলেরও সাজা

যশোরের ঝিকরগাছায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজাকে পিটিয়ে হত্যার অপরাধে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন ও তার ছেলেকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাহমুদা খাতুন এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঝিকরগাছা উপজেলার হাড়িয়াদেয়াড়া গ্রামের মৃত আফসার আলী মোড়লের ছেলে আব্দুল মান্নান মান্নু এবং তার ছেলে আলম হোসেন। রায়ে প্রধান আসামি মান্নুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়; অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে তার ছেলে আলম হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নুর-ই আলম পান্নু সাজা ও রায়ের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নথিসূত্রে জানা যায়, পারিবারিক জমিজমা নিয়ে মান্নুর সঙ্গে তার ছোট ভাই হাকিম মোড়লের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর সকালে দুই ভাইয়ের মধ্যে ফের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। সংঘাত চলাকালে মান্নু মেহগনি গাছের ডাল দিয়ে হাকিমকে আঘাত করেন। বাবাকে রক্ষা করতে হাকিমের বড় ছেলে জুয়েল এগিয়ে এলে মান্নু সেই ডাল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে জুয়েল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মান্নুর ছেলে আলমসহ অন্যরা তাকে মারধর করেন।
পরবর্তী সময়ে আহত জুয়েলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা হাকিম মোড়ল বাদী হয়ে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩১ মে ঝিকরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বিশ্বাস আদালতে চার্জশিট জমা দেন। সাক্ষ্য ও শুনানি শেষে বিচারক এ রায় দেন।