অর্থনীতি

তীব্র তাপপ্রবাহে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ৭ শতাংশ কমার শঙ্কা

৩১ জুলাই ২০২৬
তীব্র তাপপ্রবাহে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ৭ শতাংশ কমার শঙ্কা
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।

দক্ষিণ এশিয়ায় অব্যাহত তাপপ্রবাহ দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নতুন এক কাঠামোগত হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকদের কাজ করার ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যাহত ও ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়ছে। ঢাকায় প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ: দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সুরক্ষা’ শীর্ষক এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, চলমান এই ধারা বজায় থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ এই অঞ্চলের অর্থনীতি প্রায় ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমবাজারে আরও প্রায় ২৮ কোটি কর্মক্ষম মানুষ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে এই নতুন জনশক্তি উৎপাদনশীলতা হারিয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে প্রভাবে বাৎসরিক প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ কর্মসংস্থান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ২০৭০ সাল নাগাদ এই অঞ্চলের প্রায় ৫২ কোটি মানুষ বছরে অন্তত এক মাস চরম বিপজ্জনক তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হবেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে নিম্ন আয়ের পরিবার, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, নারী, বয়স্ক ও শিশুরা, যা সামাজিক বৈষম্য বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট জানান, প্রবৃদ্ধির মূল কেন্দ্র শহরগুলোকে টিকিয়ে রাখতে তাপ-সহনশীল নগর পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ অপরিহার্য। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের এফসিডিও-র প্রতিনিধি জন ওয়ারবারটন এই পরিস্থিতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বব্যাংক সুপারিশ করেছে, তাপপ্রবাহকে কেবল মৌসুমি দুর্যোগ হিসেবে না দেখে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে হিট অ্যাকশন প্ল্যান জোরদার, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী শীতলীকরণ প্রযুক্তিতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকতাপপ্রবাহদক্ষিণ এশিয়াঅর্থনীতিজলবায়ু পরিবর্তন