জাতীয়

দেশে সাড়ে ৬ বছরে বাইক দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জনের প্রাণহানি

৮ আগস্ট ২০২৬
গত সাড়ে ছয় বছরে দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার অর্ধেকের বেশিই কিশোর ও তরুণ বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

দেশে বিগত সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৬ হাজারের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতদের অর্ধেকেরও বেশির বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে, যার নেপথ্যে রয়েছে কিশোর ও যুবকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রবণতা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের মোট নিবন্ধিত যানবাহনের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। চার চাকার যানবাহনের তুলনায় এটি ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও উন্নত গণপরিবহনের অভাব ও তীব্র যানজটের কারণে এর ব্যবহার বাড়ছে। মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করাকে প্রাণহানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অথচ সঠিক মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহারে মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ৩৯ শতাংশের বেশি, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৩৪ শতাংশের বেশি এবং মুখোমুখি সংঘর্ষে ২২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার জন্য পণ্যবাহী যান ৪০ শতাংশ এবং বাইকচালকদের একক ভুল ৩৬ শতাংশের বেশি দায়ী। এ ছাড়া দুর্ঘটনার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, রাজনৈতিক শোভাযাত্রায় বেপরোয়া বাইক চালানো এবং বিজ্ঞাপনে অতিরিক্ত গতিকে উৎসাহিত করার প্রবণতা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাইকে নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্মত হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, বিজ্ঞাপনের ভাষাভঙ্গি পরিবর্তন এবং সহজ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন চালু করা।

সড়ক দুর্ঘটনামোটরসাইকেল দুর্ঘটনারোড সেফটি ফাউন্ডেশনপ্রাণহানি