আন্তর্জাতিক

নাগাসাকিতে মার্কিন পরমাণু হামলার ৮১তম বার্ষিকী পালিত

৯ আগস্ট ২০২৬
নাগাসাকিতে মার্কিন পরমাণু হামলার ৮১তম বার্ষিকী পালিত
বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন পারমাণবিক হামলার ৮১তম বার্ষিকী পালন করেছে জাপানের নাগাসাকি শহর।

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পরমাণু অস্ত্র নিয়ে নতুন বিতর্কের আবহেই মার্কিন পারমাণবিক বোমাহামলার ৮১তম বার্ষিকী স্মরণ করেছে জাপানের নাগাসাকি শহর। রোববার বার্ষিক স্মরণসভায় স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২ মিনিটে নীরবতা পালন করা হয়। ১৯৪৫ সালের এই সময়েই মার্কিন বোমারু বিমান থেকে নাগাসাকিতে ‘ফ্যাট ম্যান’ সংকেতযুক্ত প্লুটোনিয়াম বোমা ফেলা হয়েছিল।

স্মরণসভায় শান্ত ঘোষণাপত্র পাঠকালে নাগাসাকির মেয়র শিরো সুজুকি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র কোনো প্রয়োজনীয় অনিষ্ট নয়, বরং এটি একটি চরম অভিশাপ এবং মানবজাতির সঙ্গে এটি কখনোই সহাবস্থান করতে পারে না। বিশ্বে এখনো ১২ হাজারের বেশি পারমাণবিক অস্ত্র বিদ্যমান থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানান। একই সঙ্গে তিনি পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকে সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেন।

অনুষ্ঠানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাঁর দেশের পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার নীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, নাগাসাকিই যেন পারমাণবিক হামলার শিকার শেষ স্থান হয়, সেই অঙ্গীকার নিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গঠনে জাপান বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। সম্প্রতি জাপানে পারমাণবিক অস্ত্র না বানানো, না রাখা এবং প্রবেশ করতে না দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতি পুনর্বিবেচনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমিও সম্প্রতি পরমাণু অস্ত্র বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমা নগরে ফেলা পারমাণবিক বোমার আঘাতে সেই বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর ঠিক তিন দিন পর নাগাসাকিতে একই ধরনের হামলায় প্রাণ হারান আনুমানিক ৭৪ হাজার মানুষ। এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর ১৫ আগস্ট জাপান আত্মসমর্পণ করলে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসান ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের।

নাগাসাকিপারমাণবিক হামলাজাপানদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ