আন্তর্জাতিক

পশ্চিম তীরে ৩ ফিলিস্তিনি পরিবার অবরুদ্ধ, পানি-বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

১৩ আগস্ট ২০২৬
পশ্চিম তীরে ৩ ফিলিস্তিনি পরিবার অবরুদ্ধ, পানি-বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
জবরদখলের উদ্দেশে পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে তিনটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে পানি ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা গ্রামে তিনটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। জমি দখলের উদ্দেশ্যে গত রবিবার থেকে তাদের বাড়িঘরের প্রবেশপথ বন্ধের পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজেও বসতি স্থাপনকারীদের ঘরবাড়ি ঘিরে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে।

অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের একজন আয়েশা আবু রিদা জানিয়েছেন, বারবার আক্রমণ ও উচ্ছেদের চেষ্টা সত্ত্বেও তারা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে যাবেন না। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত লোয়াই রিদি আল জাজিরাকে জানান, তার ভাই কুসাই আবু রিদা ও ১৮ বছর বয়সী ভাতিজা আহমেদ অবরুদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন। শীতকালের জমানো কুয়ার পানি এবং সাময়িক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে তারা কোনোমতে টিকে আছেন। তাদের কাছে মাত্র ২ থেকে ৩ দিনের খাবার অবশিষ্ট রয়েছে।

ঘটনা স্থলে ইসরায়েলি সেনারা উপস্থিত হলেও বসতি স্থাপনকারীদের সরাতে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সেনাদের বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে প্রার্থনায় অংশ নিতে দেখার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ঐ এলাকায় অতিরিক্ত এক ব্যাটালিয়ন পদাতিক সৈন্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য দায়ী সেনাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ১,৪৩০টিরও বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ বছর ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ৭৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ জন শিশু। এছাড়া সহিংসতা ও জমি দখলের কারণে প্রায় ৩,৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

পশ্চিম তীরফিলিস্তিনইসরায়েলবসতি স্থাপনকারীকুসরা