প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেল মার্কিন ঋণের পরিমাণ

মঙ্গলবার বিকেলে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানায়, বুধবার দেশের মোট সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের দ্বার খুলেছে। বর্তমানে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০.০৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা মার্কিন ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গত এক দশকে সরকারি ঘাটতি দ্বিগুণ হওয়ার ফলে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
কমিটি ফর অ্যারিভনসিবল ফেডারেল বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ৮.৪ ট্রিলিয়ন ডলার এবং জো বাইডেনের শাসনামলে ৪.৩ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদিত হয়েছে। ট্রাম্পের আমলে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সহায়তার জন্য বিশাল অংশ ব্যয় হয়। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের অর্থবছরে (অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু) এখন পর্যন্ত ঋণে ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে, যার একটি বড় অংশ শুল্ক রিফান্ডে ব্যয় হয়েছে।
সরকারি ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো সপ্তাহ ধরেই এই মাইলফলক অতিক্রমের আশঙ্কা করছিল। কমিটি ফর অ্যারিভনসিবল ফেডারেল বাজেটের সভাপতি মেয়া ম্যাকগুইনেয়াস জানান, ১৯৮১ সালে প্রথমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণের দ্বার খোলার জন্য প্রায় ২০০ বছর সময় লেগেছিল। তিনি বলেন, এই বিশাল ঋণ শুধু সরকারি হিসাবের খাতায় নেই, এটি অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে এবং সাধারণ মানুষের পকেটে প্রভাব ফেলছে। ঋণ বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতি তীব্র হচ্ছে এবং জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেশ দুর্বল হচ্ছে।
কংগ্রেস বর্তমানে বিরতিতে থাকায় খরচের বিল নিয়ে সংস্কারের পথে আটকে আছে। সিনেট ও হাউস আলাদা আলাদা বিল পাস করেছে, কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর নাগাদ যদি উভয় কক্ষ ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পায়, তবে ফেডারেল সরকার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ঋণ বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় ট্রেজারি বিভাগ সরকারি ঋণ ক্রয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে।