প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর ও নথি জাল: গ্রেপ্তার ৬ আসামি রিমান্ডে

প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নাম, সিল এবং স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নথি তৈরির মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের শুনানি শেষে আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রিমান্ড পাওয়া আসামিরা হলেন ফারুক হোসেন, সাকিব খান, মাসুম মুনসী, মীর তৌহিদুল ইসলাম, বকুল মণ্ডল ও রফিকুল ইসলাম।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ও খাম ব্যবহার করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের বরাবরে সাত পাতার একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ছিল। নথিগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে পাঠানো হয়। সেখান থেকেই ভুয়া নথি তৈরি ও জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সিল, স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল লেটারহেড জাল করে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাদারীপুরের কালকিনি ও কুষ্টিয়া থেকে ফারুক, সাকিব, মাসুম, তৌহিদুল ও বকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট রমনা থানায় মামলা করেন ডিবির উপপরিদর্শক রায়হানুর রহমান। পরদিন ঢাকার ফকিরাপুল থেকে গ্রেপ্তার হন রফিকুল ইসলাম। আসামিদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংসদ সদস্যদের সিল এবং স্বাক্ষর সংবলিত প্যাড জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৭ আগস্ট মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক মো. সামিম সরদার। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন এবং শুনানি শেষে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।