বিনয়ী মুমিন হওয়ার কার্যকর ৬ উপায়

মানুষের আসল মর্যাদা তার চেহারা বা সম্পদে নয়, বরং চরিত্রে। বিনয় মানুষকে ছোট করে না, বরং আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান ও মানুষের কাছে প্রিয় করে তোলে। বিনয়ী চরিত্র গঠনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
প্রথমত, নিজের অর্জনকে কেবল নিজের যোগ্যতার ফল মনে করা অহংকারের কারণ। জ্ঞান, সম্পদ ও ক্ষমতা সবই আল্লাহর দান, তিনি চাইলে মুহূর্তেই তা ফিরিয়ে নিতে পারেন। এই বিশ্বাস গভীর হলে হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা ও বিনয় জাগ্রত হয়। দ্বিতীয়ত, বিনয় শুধু কথায় নয়, কাজেও প্রকাশ পায়। রাসুল (সা.) সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হওয়া সত্ত্বেও নিজ হাতে কাজ করতেন, অসুস্থদের খোঁজ নিতেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। আল্লাহর জন্য বিনয় অবলম্বনকারীকে আল্লাহ মর্যাদায় উন্নীত করেন।
তৃতীয়ত, নিঃশর্তভাবে উপকার করা ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হৃদয়কে কোমল করে। চতুর্থত, সৎ ও বিনয়ী মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা উচিত, কারণ মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। সৎ সঙ্গী অহংকার ও আত্মগর্ব থেকে দূরে রাখে।
পঞ্চমত, ভুল স্বীকার করা ও ক্ষমা চাওয়া বিনয়ের লক্ষণ। ভুল বুঝেও তা স্বীকার না করা বিনয়ের পরিপন্থী। আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া ও সংশোধনের চেষ্টা করা মানুষকে আরও সম্মানিত করে। ষষ্ঠত, দুনিয়ার চাকচিক্যে ডুবে অহংকার দূর করার জন্য মৃত্যু ও আখিরাত স্মরণ করা জরুরি। মৃত্যুর স্মরণ মনে করিয়ে দেয়, সম্পদ বা ক্ষমতা নিয়ে গর্ব করার কোনো মূল্য নেই, শুধু ইমান ও নেক আমলই চিরস্থায়ী।
বিনয় অর্জন শুধু ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়, এর জন্য আল্লাহর সাহায্য ও তৌফিকও প্রয়োজন। তাই নিয়মিত আল্লাহর কাছে উত্তম চরিত্র ও বিনয়ের জন্য দোয়া করা উচিত। নবীজি (সা.)ও উত্তম চরিত্রের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন।