বিবাদিত দ্বীপে পুতিনের প্রথম সফর, জাপানের তীব্র প্রতিবাদ

বৃহস্পতিবার বিবাদিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে জাপান তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এটিই প্রথমবারের মতো রাশিয়ার প্রধান এই বিতর্কিত দ্বীপমালা পরিদর্শন করলেন। রাশিয়ান সরকারি মিডিয়া জানায়, পুতিন কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ইতুরুপ দ্বীপে (যা জাপান এটোরোফু নামে ডাকে) যান। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তশিমিত্সু মোতেগি জানান, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দ্বীপগুলো জাপানের অন্তর্ভুক্ত এবং সরকার এই সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কুরিল দ্বীপ নিয়ে জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে দশক ধরে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের কারণেই যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। হক্কাইদো ও কামচাটকা উপদ্বীপের মাঝখানে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণের চারটি দ্বীপ জাপান ‘উত্তর অঞ্চল’ নামে দাবি করে, যদিও বর্তমানে এগুলো রাশিয়ার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দ্বীপমালা দখল করে এবং প্রায় ১৭,০০০ জাপানি বাসিন্দাকে নির্বাসিত করে।
পুতিনের সফরকালে তিনি স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন এবং মাছের ডিমের স্বাদ গ্রহণ করেন বলে রাশিয়ান মিডিয়া জানায়। তবে এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আরও শীতলতা এনেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর জাপান রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। আগেও রাশিয়ান প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মিষ্টিস্টিন ও তার পূর্বসূরি দিমিত্রি মেদভেদেফের সফরের বিরুদ্ধে জাপান প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
রাশিয়ার জন্য কুরিল দ্বীপ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত এক দশকে রাশিয়া এখানে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে। ইতুরুপ দ্বীপকে এলাকার প্রধান সামরিক বিমানঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত মাসে চীন ও রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ যৌথ পাহারার সময় কুরিল দ্বীপের একটি প্রণালী দিয়ে পার হয়ে যায়। এছাড়া দ্বীপের আশেপাশে রাশিয়ার নিয়মিত সামরিক অনুশীলনও জাপানের সমালোচনার শিকার হয়।