বেসরকারি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব এনটিআরসিএ থেকে স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে স্থানান্তরিত হওয়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিতর্ক ও বিক্ষোভের ঢেউ ওঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা মিছিল করে প্রতিবাদ জানায়। শিক্ষামন্ত্রী আহমদুল হক মিলন জানিয়েছেন যে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) মূলত যোগ্য শিক্ষক তালিকা তৈরি ও প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার দায়িত্বে ছিল। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর নির্বাহী বোর্ড ১২ সদস্যের গঠনে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা শুরু করে।
এনটিআরসিএর ১২ সদস্যের মধ্যে রয়েছে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি, মাউশি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপককে মনোনীত সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অপরদিকে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট কমিটি বা গভর্নিং বডি সাধারণত ১২ থেকে ১৫ সদস্যের হয়, যেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক প্রতিনিধি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনীত প্রতিনিধি থাকেন। ২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত এই কমিটিই শিক্ষক নিয়োগের একমাত্র কর্তৃপক্ষ ছিল।
বিভিন্ন অভিযোগের পর সরকার এনটিআরসিএকে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ ও পরীক্ষার দায়িত্ব দেয়, যার ফলে ২০১৫ সাল থেকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের নিয়োগেও এনটিআরসিএর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।