রাজনীতি

মধ্যদ্বিত্ব: বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের দ্বৈত চরিত্রের বিশ্লেষণ

১৪ আগস্ট ২০২৬
মধ্যদ্বিত্ব: বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের দ্বৈত চরিত্রের বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের মধ্যবিত্তকে ‘মধ্যদ্বিত্ব’ বলে বর্ণনা করে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা তাদের আপসকামী ও স্বার্থরক্ষামুখী করে তুলেছে।

লেখক ‘মধ্যদ্বিত্ব’ ধারণা ব্যবহার করে বাংলাদেশসহ বিশ্বে মধ্যবিত্তের দ্বৈত, দোদুল্যমান ও স্বার্থরক্ষামুখী চরিত্র বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেন, মধ্যবিত্ত কেবল আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত শ্রেণি নয়, বরং এটি মানসিকতা, সাংস্কৃতিক অবস্থান ও সামাজিক বর্গ।

মধ্যবিত্তের বৈপরীত্য প্রকাশ পায় যখন তারা অন্যায়-অবিচারে ক্ষুব্ধ হলেও দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামে স্থির থাকে না; ন্যায়, সাম্য ও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিলেও ক্ষমতা, যশ, নিরাপত্তা ও জাগতিক সুবিধার প্রলোভনে দ্রুত আপস করে। মার্ক্সীয় দৃষ্টিতে তাদের শ্রেণিচেতনার অভাব ও রক্ষণশীল প্রবণতা ‘মধ্যদ্বিত্ব’ চরিত্রকে গড়ে তোলে।

প্রবন্ধে রিচ ড্যাড‑পুওর ড্যাড দর্শন, স্মার্ট ইনভেস্টমেন্ট, এমএলএম ও পিরামিড স্কিমের উদাহরণ দিয়ে দেখানো হয়েছে কীভাবে বিশ্বায়ন ও নয়া‑উদার বাজারচিন্তা মধ্যবিত্তকে বিত্তকেন্দ্রিক উদ্বেগে আবদ্ধ করছে। পশ্চিমে কল্যাণরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা মধ্যবিত্তকে একসময় শক্তিশালী করলেও সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতায় তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লেখক দেখিয়েছেন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা ও নগরায়নের পরও গণতন্ত্রহীনতা, দুর্নীতি ও সুবিধাবাদী রাজনীতি মধ্যবিত্তকে ‘মধ্যদ্বিত্ব’ বানিয়েছে। ফলে গণতন্ত্রহীনতা ও সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের ঝুঁকির পেছনে এই বর্গের আপসকামীতা ও রাজনীতিবিযুক্ততাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মধ্যদ্বিত্বমধ্যবিত্তবাংলাদেশরাজনীতিসমাজ