অর্থনীতি

মরজাল বাজারে লটকন বিক্রিতে দেড় কোটি টাকার লেনদেন

৮ আগস্ট ২০২৬
মরজাল বাজারে লটকন বিক্রিতে দেড় কোটি টাকার লেনদেন
নরসিংদীর মরজাল বাজারে প্রতি দিন গড়ে দেড় কোটি টাকার লটকন বিক্রি হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি।

নরসিংদীর রায়পুরা গ্রামে মরজাল বাজারে লটকনের বেচাকেনা ভোর ৪টার আগেই শুরু হয়। ঢাকা‑সিলেট মহাসড়কের পাশে ঝুড়ি ও ট্রাক‑পিকআপে ফলের সারি সারি সাজে, এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় এক মৌসুমি বাজার গড়ে ওঠে।

প্রতিদিন গড়ে দেড় কোটি টাকার লটকন বিক্রি হয়। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জুন‑আগস্টে এই বাজারে লটকনের হাট বসে আছে। কৃষকরা ভোর ৪টায় বাগান থেকে লটকন সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসেন, এবং সকাল ৫টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারেরা লটকন কিনে ট্রাক ও পিকআপে করে নিয়ে যান।

আকার ও মানভেদে প্রতি মণ লটকনের দাম ২ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, আর কেজি দামে ৯০ থেকে ১২০ টাকায় নেমে এসেছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকেরা লাভের আশায় থাকেন। লটকনচাষি পরাগ আহামেদ ৩০ বিঘা বাগানে প্রায় ৬০০ মণ লটকন উৎপাদন করে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।

মরজাল বাজারে লটকন কেনা পাইকারদের মধ্যে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে আসা গৌতমও আছেন, যিনি গড়ে ১০০ টাকার কেজি দরে লটকন কিনে থাকেন। ইজারাদার আবু তাহের খানও বলেন, প্রতিদিন গড়ে দেড় কোটি টাকার লটকন বিক্রি হয়।

মরজাল সমতাবাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এই হাটকে কেন্দ্র করে শত শত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, প্যাকেজিং শ্রমিক, ভ্যানচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সবাই এই মৌসুমে কাজ পান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আজিজুল হক জানান, চলতি মৌসুমে নরসিংদী জেলার রায়পুরা, বেলাব ও শিবপুর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে চাষাবাদ, রোগবালাই দমন ও বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করছে।

মরজাল বাজারের সফলতা নরসিংদীর গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং লটকনের স্বাদ ও মানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা বাড়ছে।

মরজাল বাজারলটকননরসিংদীকৃষিগ্রামীণ অর্থনীতি