মাদরাসায় শিশুর মৃত্যু: শিক্ষক রিমান্ডে, আদালত চত্বরে স্বজনদের হামলা

রাজধানীর রায়েরবাগের মাদরাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার শিক্ষক জাকারিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক আব্দুস ছবুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
একই মামলায় গ্রেফতার আরেক শিক্ষকের বয়স নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তার রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি। আইনজীবী তাকে শিশু দাবি করায় আগামী ১৮ আগস্ট এ বিষয়ে আবার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট দুপুরে রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার রওয়াজাতুল উলুম হাফিজিয়া নুরানি মাদরাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে নাঈম শেখের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে জাকারিয়াসহ আরেক শিক্ষককে আসামি করে মামলা করেন।
আদালতে হাজির হওয়া জাকারিয়া দাবি করেন, জোহরের নামাজের পর নাঈম বাথরুমে যায় এবং আর বের হয়নি। বড় শিক্ষার্থীরা দরজা খুলে দেখে সে জামার হাতার সঙ্গে ফাঁস দিয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি মদনপুরে ছিলেন। ফোনে খবর পেয়ে এসে দেখেন শিশুটির শরীর গরম ছিল। পরে ডাক্তার এসে মৃত ঘোষণা করেন। সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নষ্ট থাকার দায় তিনি এড়াতে পারবেন না বলে বিচারক তাকে সতর্ক করেন।
নিহতের ভাই আদালতে জানায়, মাদরাসায় শিক্ষকরা বেত দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করতেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, নাঈম মাদরাসা ছাড়তে চাইলে শিক্ষকরা তাকে মারধর ও চ্যাংদোলা করে রাখেন এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। শুনানি শেষে দুই আসামিকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে নিহতের স্বজনরা তাদের ওপর হামলা চালালে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।