মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রতিহত করা হয় সব

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনগত রাতে এই আক্রমণ চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সময় অনুযায়ী বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে মার্কিন বাহিনী মাঝ আকাশেই সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে সম্পূর্ণ সতর্ক ও উচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর নৈশ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরান গালফ বা পারস্য উপসাগরে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে। গত সপ্তাহে উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে আক্রমণ বন্ধ রেখেছিল।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হওয়া হরমুজ প্রণালীতে ইরান কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। গত জুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই চলছে। ইরান দাবি করেছে, প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো নির্ধারিত রুট ব্যবহার করবে এবং তেহরান শুল্ক আদায়ের অধিকার রাখে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরের দিকে মার্কিন ও সৌদি যুদ্ধবিমান যৌথভাবে ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর বিমান হামলা চালায়। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার পেছনে এই মিলিশিয়াদের দায়ী করে এই হামলা চালানো হয়। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এই দায় অস্বীকার করেছে এবং অভিযোগ করেছে যে হামলাটি ইয়েমেনের হুথিরা চালিয়েছে।