অপরাধ

মেহেরপুরে ৯৬টি মাইন নিষ্ক্রিয়, বেতবাড়িয়া গ্রামে আতঙ্কের পরে স্বস্তি

১০ আগস্ট ২০২৬
মেহেরপুরে ৯৬টি মাইন নিষ্ক্রিয়, বেতবাড়িয়া গ্রামে আতঙ্কের পরে স্বস্তি
যশোর সেনানিবাসের বোম ডিস্পোজাল টিম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে ৯৬টি মাইন নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে, যা স্থানীয়দের আতঙ্ক দূর করেছে।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করা ৯৬টি মাইন যশোর সেনানিবাসের বোম ডিস্পোজাল টিম সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে তিনটায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মাইনগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে ধ্বংস করা হয়। মাইন নিষ্ক্রিয় করার সময় মুহূর্ত মুহূর্তে বিস্ফোরণের শব্দে বেতবাড়িয়া এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরক ধ্বংসের পর স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

শনিবার দুপুরে বেতবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের পরিত্যক্ত জমিতে মাটি কাটার সময় মাইন সদৃশ বেশ কয়েকটি বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর দেওয়ার পর পুলিশ ও বিজিবি এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

ঘটনাস্থলটি ক্রাইম সিন হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাইনগুলো পুরোনো হলেও সক্রিয় কি না তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

যশোর সেনানিবাসের বোম ডিস্পোজাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাইনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং নিরাপদ স্থানে নিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করে। একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

স্থানীয় বিপুল হোসেন জানান, এত বছর ধরে জমি পরিত্যক্ত থাকলেও সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ছিল। মাটি কাটার সময় মাইনগুলো বেরিয়ে আসার পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন তারা। বিশেষ করে শিশু ও সাধারণ মানুষ যেন ঘটনাস্থলের কাছে না যায়, সেজন্য স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

পুলিশের মতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় কৌশলগত কারণে এসব মাইন ওই এলাকায় পুঁতে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে মাইনগুলোর প্রকৃত উৎস ও কত বছর আগে এগুলো সেখানে রাখা হয়েছিল তা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।

মেহেরপুর গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিমুল কুমার দাস জানান, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় আরও কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আরও অনুসন্ধান চালানো হবে।

মেহেরপুরবেতবাড়িয়ামাইনবোম ডিস্পোজাল টিমবিপদ