রাখাইনে নিরাপত্তা ফিরলে তিন লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

মিয়ানমারের সেনাসমর্থিত সরকার ঘোষণা করেছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তারা বাংলাদেশের শিবিরে থাকা প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে দেশে ফেরত নিতে প্রস্তুত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে এই শরণার্থীরা মূলত রাখাইনের বাসিন্দা।
গত জুলাইয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে পাওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর তালিকা যাচাই করে। এর ফলাফলে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা যায়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে অভিহিত করা হয়েছে।
মিয়ানমার সরকার দাবি করেছে, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং ২ লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনেই অবস্থান করছে। তারা ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। যদিও ২০১৮ সালে প্রত্যাবাসন কাঠামোতে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থান এবং এরপর রাখাইনে আরকান আর্মির সাথে সংঘাতের কারণে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে রাখাইনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আরকান আর্মি। আশ্রয়শিবিরের অবনতিশীল পরিস্থিতি এবং প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার দিকে পাড়ি জমাচ্ছেন। গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার কথা বলা হলেও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, এটি কেবল আটককেন্দ্রে থাকা যাচাই করা নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।