অর্থনীতি

রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সে গতি ফিরলেও অর্থনীতিতে রয়ে গেছে চ্যালেঞ্জ

৪ আগস্ট ২০২৬
রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সে গতি ফিরলেও অর্থনীতিতে রয়ে গেছে চ্যালেঞ্জ
রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বাড়ায় বৈদেশিক খাতে সাফল্য আসলেও খেলাপি ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ধীরগতির প্রবৃদ্ধির কারণে দেশের অর্থনীতিতে সংকট রয়ে গেছে।

বিগত দুই বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাতগুলোতে দৃশ্যমান উন্নতি হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে তার সুফল পুরোপুরি মেলেনি। প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বেশি। এই সময়ে মোট রিজার্ভ ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেলেও বৈদেশিক ঋণ শোধ ও আমদানি খরচের চাপের কারণে রিজার্ভ এখনও পুরোপুরি ঝুঁকি মুক্ত নয় বলে মনে করছে আইএমএফ।

বৈদেশিক খাতে অগ্রগতি হলেও দেশীয় বাজারে তার প্রভাব সীমিত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে উঠেছিল, যা ২০২৬ সালের জুনে কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ হলেও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা পুরোপুরি ফেরেনি। তা ছাড়া ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত অবস্থা উন্মোচনের ফলে খেলাপি ঋণের হার ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। একই সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধিও কমে এসেছে; ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পরের অর্থবছরে ৩ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে যায় এবং চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে এর গড় দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান ও ড. জাহিদ হোসেনের মতে, শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; বাজার ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর সংস্কার একযোগে চালাতে হবে। তবে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতি ফেরানোর পর এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও ব্যাংক খাতের সংস্কার নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ অর্থনীতিরেমিট্যান্সব্যাংক খাতমূল্যস্ফীতিরিজার্ভ