লাইসেন্সহীন প্যারাসেইলিংয়ে মৃত্যু, ১০ বছরে ১৯টি দুর্ঘটনার ইতিহাস

কক্সবাজারের দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে সমুদ্রে পড়ে অক্ষর শৌভিক রায় (৩০) নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার এই ঘটনার পর পর্যটক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১০ বছরে ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সাথে জড়িত অন্তত ১৯টি দুর্ঘটনায় পর্যটকরা আহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বৈরী আবহাওয়ায়ও তারা প্যারাসেইলিং চালু রেখেছিল।
কক্সবাজারে সৈকতে তিনটি প্রতিষ্ঠান প্যারাসেইলিং পরিচালনা করলেও কোনোটিরই যথাযথ অনুমোদন নেই। এগুলো ইজারার ভিত্তিতে নিরাপত্তা শর্ত পূরণ না করেই কার্যক্রম চালাচ্ছিল। ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টুয়াক) উপদেষ্টা মফিজুর রহমান জানান, প্রশাসনিক তদারকি ছাড়া অনভিজ্ঞ লোকজন দিয়ে এ কাজ চলছে। টাকার লোভে ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, কক্সবাজারের কোনো প্রতিষ্ঠানই লাইসেন্স নিয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে না। বারবার অভিযান চালানোর পরও গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে এসেছে তারা। গত ২৭ জুলাই থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দরিয়ানগর ও হিমছড়ি এলাকায় প্যারাসেইলিং বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাজ চালিয়েছিল।
মৃত্যুর ঘটনার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্যারাসেইলিং সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করেছেন। যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং কাগজপত্র যাচাইয়ের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিনা অনুমতিতে প্যারাসেইলিং পরিচালনার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়দের দাবি, প্রাণহানির পর প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ ফরিদ আত্মগোপন করেছেন।