রাজনীতি

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা: আইনি পথ ও কূটনৈতিক জটিলতার হিসাব

৮ আগস্ট ২০২৬
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা: আইনি পথ ও কূটনৈতিক জটিলতার হিসাব
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে ফেরানোর আইনি পথ থাকলেও বিষয়টি মূলত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে।

নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে বর্তমান সরকার তাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে ফেরত আনার বিষয়ে কথা বলে আসছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সমীকরণই এখানে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে সই হওয়া এবং ২০১৬ সালে সংশোধিত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্তত ১ বছরের সাজার বিধান থাকলে তাকে ফেরত চাওয়া যায়। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা ও গুমের মতো একাধিক ফৌজদারি মামলা থাকায় এটিকে সাধারণ 'রাজনৈতিক মামলা' হিসেবে খারিজ করা বেশ কঠিন। উপরন্তু, কেবল আদালতের দেওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি জমা দিয়েই হস্তান্তরের আবেদন করা সম্ভব এবং পলায়ন ঠেকাতে ৬০ দিনের অস্থায়ী গ্রেপ্তারের নিয়মও রয়েছে।

তবে চুক্তিতে ফেরত পাঠানোর আবেদন বাতিলেরও কিছু বিধান রয়েছে। ভারতের কাছে যদি মনে হয় যে অভিযোগগুলো সরল বিশ্বাসে বা কেবল ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়নি, তবে দিল্লি সেই আবেদন নাকচ করতে পারে। ফলে আইনি নথি আদান-প্রদান হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনলে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তার বারবার দেশে ফেরার বক্তব্য দেওয়ার পেছনে দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে রাজনৈতিক চাপে রাখার কৌশল থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেখ হাসিনাপ্রত্যর্পণ চুক্তিবাংলাদেশ ভারত সম্পর্করাজনীতি