শেখ হাসিনার দেশে ফেরার উপায়ে জটিলতা ও কূটনৈতিক সমীকরণ

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ায় ঢাকা ও দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তার দেওয়া এই বার্তার পর ঢাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরবর্তীতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে দিল্লিতে ফিরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও আলোচনা করেন।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার পথে বড় দুটি আইনি বাধা রয়েছে—তার বৈধ পাসপোর্ট নেই এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আদালতের রায় অনুযায়ী তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে। সাবেক কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবীরের মতে, বৈধ পাসপোর্ট না থাকলে দেশে ফেরার জন্য তার ট্রাভেল পারমিট প্রয়োজন হবে, যা দেওয়া না-দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। এছাড়া বাংলাদেশকে ফেরত পাঠাতে দুই দেশের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর করার বিষয়ে কূটনৈতিক জটিলতা রয়েছে।
তবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এলিনা খানের মতে, শেখ হাসিনা যেহেতু নিজেই ফিরতে চাচ্ছেন এবং সরকারও তাকে ফেরত চাইছে, তাই প্রত্যর্পণ চুক্তির বাধ্যবাধকতা সেখানে বড় বাধা না-ও হতে পারে। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়া দেশে ফিরলে তাকে সাথে সাথেই গ্রেফতার বা হেফাজতে যেতে হবে, কারণ তার মৃত্যুদণ্ডের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।