অপরাধ

সিলেটের জমি বিরোধে ভাড়াটে খুনি দিয়ে দম্পতি ও গৃহকর্মী হত্যার মামলা

১৪ আগস্ট ২০২৬
সিলেটের জমি বিরোধে ভাড়াটে খুনি দিয়ে দম্পতি ও গৃহকর্মী হত্যার মামলা
সিলেটের রায়নগর মিতালি এলাকায় জমি বিরোধে ভাড়াটে খুনি দিয়ে দম্পতি ও গৃহকর্মীকে হত্যা করার অভিযোগে মামলার এজাহার দাখিল হয়েছে।

সিলেট নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় এক দম্পতি ও গৃহপরিচারিকা হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

নির্বাচিত দম্পতি আবদুস সাত্তার (৯০) ও সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনার (২০) ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

মামলার এজাহার দাখিল করেন দম্পতির যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তিনি অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকির ধারাবাহিকতায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাঁর বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

সেলিনা জানান, তাঁর বাবা এম এ সাত্তার ১৯৯৭ সালে রিকাবীবাজারের সরফপুর এলাকায় প্রায় ১২ শতক জমি ইজারা নিয়ে বসবাস করছিলেন। ২০০৬ সালে ইম্পালস বিজনেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ওই জমিসহ সমিতির আরও জমি তাঁর প্রতিষ্ঠানের নামে দলিল করে মালিকানা দাবি করেন। এ কারণে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়।

এর পর ২০১৬ সালে বাবা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার প্রত্যাহারের জন্য বাবা ও সেলিনাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি বিকেলে সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন বাসায় গিয়ে হুমকি দেন, কিন্তু প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানালে তর্কবিতর্ক হয়।

সর্বশেষ ২৮ ও ৩০ জুলাই আদালত প্রাঙ্গণে এম এ সাত্তারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এসব হুমকির ধারাবাহিকতায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।

নিহত দম্পতির এক ছেলে ও তিন মেয়ে প্রবাসে থাকেন। ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। দম্পতির মৃত্যুর পর জানাজা সিলেট নগরের শাহি ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে মানিক পীর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সিলেটজমি বিরোধভাড়াটে খুনিহত্যামামলা