প্রযুক্তি

সূর্যের গায়ে প্রথমবার দেখা গেল অদৃশ্য ঘূর্ণিপাক

৮ আগস্ট ২০২৬
হাওয়াইয়ের টেলিস্কোপে সূর্যের গায়ে প্রথমবার শনাক্ত হলো কেলভিন-হেলমহোল্টজ ইনস্ট্যাবিলিটি নামক ঘূর্ণি, যা সৌরঝড়ের পূর্বাভাসে সাহায্য করবে।

মহাকাশের বুকে জ্বলতে থাকা সূর্যের পৃষ্ঠে আগে কখনো দেখা যায়নি এমন এক অদ্ভুত ঘূর্ণিপাক শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের ইনোয়ে সোলার টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই দৃশ্য ধারণ করা হয়। এই টেলিস্কোপের চার মিটার বিশালাকার আয়না ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সূর্যের সৌরকলঙ্কের প্রান্তে তীব্র চৌম্বকীয় তাণ্ডব দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত গবেষণায় জানানো হয়েছে, সূর্যের পৃষ্ঠে প্রথমবারের মতো কেলভিন-হেলমহোল্টজ ইনস্ট্যাবিলিটি নামক ঘটনাটি স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। সূর্যের ওপর দুটি প্লাজমা প্লাবন ভিন্ন গতিতে একে অপরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হলে এই ঘূর্ণির মতো প্যাটার্ন তৈরি হয়, যা দেখতে অনেকটা পানির ঘূর্ণিপাকের মতো।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্লাজমা ঘূর্ণিগুলো সূর্যের শক্তিশালী আবহাওয়া পরিবর্তনের মূল কারণ হতে পারে। এটি সৌরঝড় বা করোনাল মাস ইজেকশনের পূর্বাভাস পাওয়া সহজ করবে, যা স্যাটেলাইট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে বিকল করতে পারে। ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরির এনএসএফ প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জ্যাকলিন কেন জানান, কয়েক দশক ধরে এত ছোট স্কেলে এই ঘূর্ণি দেখা অসম্ভব ছিল।

গবেষকরা টেলিস্কোপের তথ্যের সঙ্গে কম্পিউটার সিমুলেশন মিলিয়ে দেখেছেন এবং দুটি মাধ্যমেই চৌম্বকীয়ভাবে অস্থির অঞ্চলে এই ঘূর্ণির উপস্থিতির মিল পেয়েছেন। ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরির উপপরিচালক ডেভিড বোবোল্টজ এটিকে সৌর ও নক্ষত্রমণ্ডলীর প্লাজমার গতিশীলতা বোঝার ক্ষেত্রে এক বড় অগ্রগতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই ঘূর্ণিগুলো সৌরকলঙ্কের তীব্র বিস্ফোরণের পেছনে জ্বালানির ভূমিকা পালন করে। আগের তত্ত্ব অনুযায়ী সৌরচৌম্বক রেখাগুলো জড়িয়ে শক্তি সঞ্চয় করলেও কেন তা পেঁচিয়ে যায় তা অজানা ছিল। এখন মনে করা হচ্ছে, এই ছোট ঘূর্ণিগুলোই চৌম্বক রেখাকে পেঁচাতে মূল ইঞ্জিনের কাজ করে। এ ছাড়া সূর্যের করোনা অঞ্চল কেন কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস উত্তপ্ত হয়, তার ব্যাখ্যাও এতে মিলতে পারে।

সূর্যবিজ্ঞানমহাকাশটেলিস্কোপগবেষণা