স্পেকট্রাম নীতি: রাজস্বের বদলে ডিজিটাল প্রবৃদ্ধির দিকে আহ্বান

টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) ১৫ আগস্ট রাজধানীর একটি হোটেলে ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ: এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে।
আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী টেলিকম ও আইটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী উপস্থিত ছিলেন।
টিআরএনবির সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সঞ্চালনায় টেলিকম খাতের বিভিন্ন প্রতিনিধি, যেমন এমটব প্রেসিডেন্ট জিয়াদ সাতারা, বাংলালিংক সিইও ইয়োহান বুসে, গ্রামীণফোন সিইও ইয়াসির আজমান, রবি আজিয়াটার সিইও জিয়াদ সাতারা এবং অন্যান্য শিল্প বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
রেহান আসিফ আসাদ স্পেকট্রাম নবায়ন নিয়ে বলেন, নেটওয়ার্কের মান, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক মডেল এবং গ্রাহকের চাহিদা বিবেচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তিনি জোর দেন যে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত এড়িয়ে জনগণের প্রয়োজনকে প্রথমে রাখতে হবে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণে এককালীন রাজস্ব আয়ের বদলে গ্রাহকসেবা, অপারেটরদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ‘সুইট পয়েন্ট’ খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে আগামী নভেম্বরের বড় পরিসরের স্পেকট্রাম নবায়নের সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে না নিয়ে অংশীদারিত্বমূলক প্রক্রিয়ায় নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখ গ্রাহকের জন্য ২ থেকে ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ২.২৯ মেগাহার্টজ ব্যবহার হচ্ছে। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের প্রয়োজন হবে, অথচ বর্তমানে ৪৬০ থেকে ৪৬২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহার হচ্ছে এবং আগামী বছর আরও ৪০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামের পরিকল্পনা রয়েছে।
এমটব প্রেসিডেন্ট জিয়াদ সাতারা বলেন, স্পেকট্রামের প্রকৃত মূল্য রাজস্বের ভিত্তিতে নয়, বরং উন্নত সংযোগ, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সুযোগের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ অপারেটরদের মূলধন বিনিয়োগে বাধা দিতে পারে, যা সেবার মান ও গ্রাহক সন্তুষ্টিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলালিংক ও গ্রামীণফোনের সিইওরা সাশ্রয়ী স্পেকট্রাম বরাদ্দের মাধ্যমে সেবার মান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ডিজিটাল অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এমডি মুনির হাসান উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে ১৮ বছরের জন্য স্পেকট্রাম বরাদ্দের সময় প্রধান উদ্দেশ্য ছিল রাজস্ব আহরণ। কিন্তু সাম্প্রতিক ১৫-১৮ বছরে সীমিত স্পেকট্রাম হোল্ডিং, অপর্যাপ্ত ফাইবার অবকাঠামো ও টাওয়ার সাইটে সীমিত প্রবেশাধিকার ইত্যাদি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা টেলিকম খাতকে বাধাগ্রস্ত করেছে।