হিন্দ রাজাবের মৃত্যু: ইসরায়েলি সেনারা গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল, এখন তদন্ত শুরু

গাজায় ২০২৪ সালে পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাব ও তার ছয়জন আত্মীয়ের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তারা হিন্দসহ যাত্রী নিয়ে থাকা একটি গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল। হিন্দ রাজাবের মৃত্যুর পর তার দেহ এবং অন্য নিহতদের দেহ কয়েকদিন পর উদ্ধার করা হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হিন্দ, তার পরিবার এবং দুইজন প্যারামেডিকের মৃত্যুর ঘটনায় সামরিক পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন একটি অপরাধমূলক তদন্ত শুরু করবে। আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল সমন্বয়ে দাবি করা ব্যর্থতার কারণে এই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইডিএফ আরও উল্লেখ করেছে, তাদের তদন্ত থেকে বের হয়েছে যে, তারা একটি গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল যা তাদের প্রকাশিত ঘোষণার বিপরীতে চলাচল করছিল। তবে শুরুতে আইডিএফ দাবি করেছিল যে, হিন্দ নিহত হওয়ার সময় তাদের কোনো সৈন্য সেখানে উপস্থিত ছিল না। পরে তারা স্বীকার করে, গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় তারা অভিযান পরিচালনা করছিল।
এছাড়াও, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ রফাহের তাল আল-সুলতান এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার ইঞ্জিন এবং একটি জাতিসংঘের গাড়িতে গুলি চালিয়ে ১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনায়ও আইডিএফ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন আইডিএফের এই তদন্তের ওপর কোনো আস্থা প্রকাশ করেনি। তারা বলেছে, এই তদন্তগুলো ন্যায়বিচারের প্রকৃত পদক্ষেপ নয় এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রক্রিয়াগুলো মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ। অন্যদিকে, হিন্দ রাজাবের কণ্ঠস্বর নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালে রেকর্ড ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।