২৫ বছরের জীবনগাথা নিয়ে আলোকচিত্রী সানগুইনেত্তির প্রথম সিনেমা

আর্জেন্টিনার পাম্পাস সমভূমিতে বেড়ে ওঠা দুই তুতো বোন গিই ও বেলিন্ডার দীর্ঘ ২৫ বছরের জীবনযাত্রার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোকচিত্রী আলেসান্দ্রা সানগুইনেত্তির প্রথম চলচ্চিত্র ‘দ্য ইলিউশন অব অ্যান এভারলাস্টিং সামার’। সুইজারল্যান্ডের ৭৯তম লোকোর্নো চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ফিল্মমেকার্স অব দ্য প্রেজেন্ট’ বিভাগে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জুলিয়া সলোমনফের প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রে অর্থায়ন করেছে মুবি ও ইমপ্যাক্ট পার্টনার্স।
দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে সানগুইনেত্তি তাঁর ক্যামেরায় দুই বোনের শৈশব, প্রেম, মাতৃত্ব এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পৃথক জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্যগুলো ধারণ করেছেন। চলচ্চিত্রের স্থির ফ্রেম ও ঝাপসা ভিডিও ফুটেজ গ্রামীণ জীবনের এক স্বাভাবিক ও আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করেছে। চলচ্চিত্রে প্রাণবন্ত খামার এবং পশুদের উপস্থিতিতে দুই বোনকে নানা স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় ও নাচ-গান করতে দেখা যায়। ২০২৫ সালের লোকোর্নো উৎসবে প্রদর্শিত অ্যালেক্সান্দ্রে কোবেরিডজের 'ড্রাই লিফ' চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল শৈলীর সঙ্গে এর কিছুটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
দীর্ঘ সময় ধরে ছবি তোলার কারণে দুই বোনের সঙ্গে পরিচালকের সম্পর্ক এখন পরিবারের সদস্যের মতোই হয়ে উঠেছে। সানগুইনেত্তি জানান, তিনি জীবনকে ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিকভাবে বয়ে যেতে দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে তা থেকে প্রয়োজনীয় অংশ নির্বাচন করেছেন। এর মাধ্যমে সময়ের ব্যবধানে তাদের জীবনে কীভাবে পরিবর্তন এসেছে এবং নিজেদের ইচ্ছাশক্তিতে তারা কী অর্জন করেছে, তা ফুটে উঠেছে।
মানুষের পাশাপাশি এই চলচ্চিত্রে পশুপাখির উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পাম্পাস অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রে গবাদিপশু, কুকুর ও বিড়ালের গুরুত্ব তুলে ধরে পরিচালক জানান, তিনি সব সময়ই প্রাণীদের মানুষের সমান গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। কৃষিকাজহীন এই গ্রামীণ এলাকায় পশুদের উপস্থিতির কারণেই মানুষের জীবনযাত্রা টিকে রয়েছে।