জাতীয়

৪ ধনী সাহাবির অর্থনৈতিক দর্শন: ব্যক্তিগত ভোগ নয়, সমাজকল্যাণ

৭ আগস্ট ২০২৬
৪ ধনী সাহাবির অর্থনৈতিক দর্শন: ব্যক্তিগত ভোগ নয়, সমাজকল্যাণ
ইসলামের ইতিহাসের চারজন ধনী সাহাবি কীভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা ব্যক্তিগত ভোগের বদলে সমাজকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংকট নিরসনে ব্যবহার করেছেন, তার একটি প্রামাণ্য পর্যালোচনা।

ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক সাহাবি ছিলেন, যাদের বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক মক্কা ও মদিনার সীমানা ছাড়িয়ে ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরাক ও আবিসিনিয়ায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তবে এরা কেউই তাদের বিপুল ধনসম্পদ ব্যক্তিগত ভোগবিলাস বা ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করেননি। বরং তা মানবিক পুনর্বণ্টন, সমাজকল্যাণ এবং রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবিলায় লাগানো হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসের শীর্ষস্থানীয় চারজন ধনকুবের সাহাবির ব্যবসায়িক কৌশল ও সামাজিক দায়বদ্ধতার গল্পটিই এখানে তুলে ধরা হলো।

আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তা, যিনি হিজরতের সময় মক্কায় থাকা সব সম্পদ ফেলে এক কাপড়ে মদিনায় আসেন। মদিনায় পৌঁছানোর পর নবীজি (সা.) তাঁকে ধনী সাহাবি সাদ ইবনে রাবির (রা.) সাথে যুক্ত করেন। সাদ (রা.) তাঁর সম্পদের অর্ধেক এবং একটি বাগান দিতে চাইলে, আবদুর রহমান (রা.) তা প্রত্যাখ্যান করে শুধু বাজারের পথ জানতে চান। কাইনুকা বাজারে পনির ও মাখনের ক্ষুদ্র ব্যবসা দিয়ে শুরু করে তিনি দ্রুত ঘোড়ার জিন ও ঘোড়ার ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার করেন। তাঁর বাণিজ্য কাফেলায় ৭০০টি উট থাকত।

খলিফা ওমর (রা.) তাঁকে ধনসম্পদ অর্জনের রহস্য জানতে চাইলে তিনি তিনটি নীতির কথা বলেন: কখনো বাকিতে পণ্য বিক্রি করা হয়নি, সামান্য লাভেও দ্রুত পণ্য বিক্রি করে দিয়েছেন এবং পণ্যের কোনো ত্রুটি থাকলে তা ক্রেতার গোচরীকরণ করেছেন। ইন্তেকালের সময় তাঁর চার স্ত্রীর প্রত্যেকে উত্তরাধিকারস্বরূপ ৮৪ হাজার দিনার পেয়েছিলেন। সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। একবার ইফতারের খাবারের সামনে বসে তিনি শহীদ সাহাবিদের কথা স্মরণ করে কাঁদতে শুরু করেন এবং খাবার থেকে হাত গুটিয়ে নেন।

তৃতীয় খলিফা ওসমান ইবনে আফফান (রা.) উমাইয়া গোত্রের অভিজাত ছিলেন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে বিপুল সম্পদ পেয়েছিলেন। তিনি রেশম, মসলা ও সুগন্ধির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান হলো মদিনায় পানির সংকট দূর করতে ‘বীরে রুমা’ নামক কুয়াটি ৩৫ হাজার দিরহামে কিনে তা ওয়াকফ করে দেওয়া। এটি বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম প্রথম সামাজিক ওয়াকফ হিসেবে বিবেচিত। তাবুক অভিযানে তিনি ১ হাজার দিনার, ১০০টি ঘোড়া ও ৯০০টি উট দান করেন। শাহাদাতের সময় তাঁর কোষাধ্যক্ষের কাছে ৩ কোটি দিরহাম ও দেড় লাখ দিনার গচ্ছিত ছিল।

জুবায়ের ইবনুল আওয়ামের (রা.) অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ভিন্ন ধরনের। তিনি প্রচলিত আমদানি-রপ্তানির চেয়ে স্থায়ী সম্পদ, বিশেষ করে আবাসন ও জমি খাতে বিনিয়োগে বেশি গুরুত্ব দিতেন। যদিও মূল লেখাটি এখানেই সমাপ্ত হয়েছে, তবুও এ তিনজন সাহাবির জীবন থেকে বোঝা যায় যে, ধনসম্পদ কখনো অহংকারের কারণ হয়নি, বরং তা সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের মাধ্যমেই তারা তাদের ধনকে পবিত্র করেছেন।

সাহাবিঅর্থনীতিইসলামের ইতিহাসব্যবসাসমাজকল্যাণ