৫‑বছর‑বয়সী হিন্দ রাবাবের মৃত্যুতে ইসরায়েলি বাহিনী ৩৩০‑এর বেশি গুলি চালিয়েছে

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজা শহরে হিন্দ রাবাব ও তার পরিবারকে লক্ষ্য করে ৩৩০‑এর বেশি গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে ১৫‑বছর‑বয়সী কজনও ছিল।
হিন্দ রাবাবের পরিবার একটি কালো কিয়া গাড়িতে ইসরায়েলি সরিয়ে নেওয়ার আদেশ মেনে চলতে গিয়ে গাড়িতে গুলি চালানো হয়। গাড়িতে গুলি চলাকালীন হিন্দের ৫‑বছর‑বয়সী বোনকে বেঁচে থাকতে দেখা যায়, কিন্তু পরে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে মেডিকেল যানবাহনেও গুলি চালানো হয়, ফলে দুইজন মেডিকেল কর্মী নিহত হন।
আভাাজ গ্রুপের বিশ্লেষণে দেখা যায়, গাড়িতে গুলি চালানোর পর প্রায় তিন ঘন্টা পরে মেডিকেল যানবাহনে গুলি চালানো হয়, যা ইঙ্গিত দেয় যে ইসরায়েলি বাহিনী পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বিতীয় আক্রমণ করেছে।
আল জাজিরা ও হিন্দ রাবাব ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় তৈরি ডকুমেন্টারিতে মের্কাভা ট্যাঙ্কের ছবি ও স্যাটেলাইট চিত্র দেখানো হয়েছে, যেখানে ট্যাঙ্কগুলো গাড়ির পাশে ছিল এবং কোনো অস্ত্র সংঘর্ষের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রথমে দাবি করেছিল যে গাড়িতে গুলি চালানো হয়নি, পরে বলেছিল যে ৩৩৫টি গুলির গর্ত প্যালেস্টাইনি যোদ্ধাদের সঙ্গে ক্রসফায়ার থেকে এসেছে।
মে ৩, ২০২৫ তারিখে হিন্দ রাবাব ফাউন্ডেশন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করে, যেখানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল বেনি আহারনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিককালে এই ঘটনায় একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে, যা প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সরকারীভাবে গাড়িতে গুলি চালানোর স্বীকারোক্তি দিয়েছে।