মানুষ যে কারণে একসাথে ঘুমায়

দীর্ঘক্ষণের ক্লান্তির পর প্রশান্তি আশায় ঘুম। একা নয়। বছরের পর বছর ধরে মানুষ একে অপরের পাশাপাশি ঘুমাতে অভ্যস্ত। শয়নসঙ্গীর নাক ডাকার সমস্যাসহ ঘুম ভেঙে যাওয়ার নানা উপকরণের উপস্থিতির পরেও একসাথে ঘুমায় মানুষ। তবে শারীরিকভাবে মানুষ পাশাপাশি ঘুমালেও মূলত ঘুম একেবারেই নিজস্ব ব্যাপার। অনেকটা ম্যারাথন দৌড় কিংবা খাবার চিবিয়ে খাওয়ার মতই একটি স্বতন্ত্র কাজ এটি। এরপরও কেন একসাথে শোয়া? কেনইবা এর প্রচলন? সে প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন ভার্জিনিয়া টেক প্রফেসর এবং ইতিহাসবিদ রজার একির্চ এবং নিউইয়র্কভিত্তিক পরামর্শক লী ক্রেসপি। নিচে তুলে ধরা হলো সে কারণগুলো-

ঘুমায়

আর্থিক সঙ্কট

নিজের লেখা অ্যাট ডে’স ক্লোজ: নাইট ইন টাইমস পাস্ট নামের বইতে রজার বলেন, ১৮ শতক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মানুষের একসাথে ঘুমানোর পেছনে কাজ করছে আর্থিক প্রয়োজনীয়তা। ১৮ শতকের সময়কার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শিল্প পূর্ববর্তী সময়ে ইউরোপের নিম্ন শ্রেণীর লোকজনের মধ্যে পরিবারের সবাই মিলে এক খাটে ঘুমানোর প্রচলন ছিল। আর তার একটি বড় কারণ ছিল ব্যয়বহুল আসবাবপত্র। তবে অপেক্ষাকৃত সুশীল দম্পতিরা মাঝে মাঝে আলাদা ঘুমাতেন একান্তই আরামের জন্য। বিশেষ করে দুইজনের কেউ একজন অসুস্থ থাকলে।

অন্ধকার ভীতি

রজার মনে করেন, মানুষের একসাথে ঘুমানোর পেছনে আরেকটি বড় উদ্দীপক হলো অন্ধকার ভীতি। রাত্রিকালীন অন্ধকারে একা থাকতে ভয় পায় মানুষ। তাদের মনে দেখা দেয় নানা কল্পনাজাত ভীতি। আর রাত্রিকালীন সে ভয় দূর করে শয়নসঙ্গী। কেউ পাশে শোয়া থাকলে চোর কিংবা ভ’তজনিত কাল্পনিক ভীতি ভুলে থাকতে পারে মানুষ।

গল্প করতে

দিনভর কর্মব্যস্ত সময়ের নানা কষ্টকর অনুভ’তি শয়নসঙ্গীর সঙ্গে বলে হালকা হতে পারে মানুষ। তখন নিজেকে আর একা মনে হয় না।

সামাজিক রীতি-নীতি

আধুনিক সময়ে ভ’তের ভয় নয়; বরং সামাজিক প্রচলন ও নিয়ম-নীতিই অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে একসাথে ঘুমাতে বাধ্য করে। নিউইয়র্কের বিবাহ সম্পর্কবিষয়ক পরামর্শক লী ক্রেসপির মতে স্বামী-স্ত্রী একসাথে না ঘুমালে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় বলে সমাজে এমন ধারণা প্রচলিত থাকায় তারা চাইলেও আলাদা ঘুমাতে পারেন না। স্বামী-স্ত্রী আলাদা খাটে ঘুমালে তাদের সম্পর্কে জটিলতা চলছে কিনা তা আবিষ্কারের চেষ্টা করেন অন্যরা। ক্রেসপির মতে, দম্পতিদের ক্ষেত্রে সমাজ ব্যবস্থা এতটাই রীতিসিদ্ধ যে একা শুয়ে কারও ভালো ঘুম হলেও তা জনসমক্ষে তারা স্বীকার করেন না।

সঙ্গপ্রিয়তা

ক্রেসপির মতে, ভীতি এবং বৈবাহিক সম্পর্ক বাদ দিয়েও এমন অনেক বন্ধন আছে যার কারণে মানুষ একসঙ্গে ঘুমায়। কারণ মানুষ সহজাতভাবেই একে অপরের প্রতি স্নেহশীল এবং ঘনিষ্ঠ।

ক্রেসপির মতে, ‘মানুষ সঙ্গপ্রিয় মানুষ।’ আর স্বাভাবিক কারণেই মানুষ খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাউকে কাছে পেতে চায়। আর সেকারণেই তারা একসাথে ঘুমায়। এমনকি সে কাছের মানুষটির নাক ডাকাজনিত কারণে ঘুম ভেঙে গেলেও।

Leave a Reply